Search This Blog

কার্টেসি

মালয়শিয়াতে আসার পর থেকে নানান রকমের অভিজ্ঞতার সম্মূখীন হইতে হইছে। সেসব অভিজ্ঞতার কোনটা বিব্রতকর, কোনটা চাঞ্চল্যকর, আবার কোন কোনটা ভয়ঙ্কর। এখন যে অভিজ্ঞতার কথা বলব সেটা কোন “কর”-এর আওতায় পড়েছে তা আমি নিজেও নিশ্চিত না। সেটা বিবেচনা করার দায়িত্ব আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।
এখানে আসার মাস তিনেক পরের ঘটনা। ভার্সিটি থেকে ক্লাস করে বাসার দিকে ফিরছি। ভার্সিটি থেকে বাসায় যেতে হলে LRT (Light Rail Transit) দিয়ে যেতে হয়। এখানকার LRT, বাস, মনোরেলগুলোতে প্রায়রিটি সিটিং এর ব্যাপারে একটা কথা লেখা থাকে “Aren’t we courteous?” সাথে সিনিয়র সিটিজেন, প্রতিবন্ধি, আন্ডাবাচ্চা ও গর্ভবতী মহিলাদের ছবি দেয়া। যার অর্থ হল এদেরকে আগে বসতে দিন। (বাংলাদেশের বাস গুলাতেও এই কথা লেখা থাকে। তবে তা অন্যভাবে- “মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ”। এত সুন্দরে করে ছবি দিয়ে লেখা থাকে না)। তো আমি প্রায় প্রতিদিন ঐ লেখার দিকে তাকিয়ে ভাবতাম কবে কার্টেসি দেখানোর সুযোগ পাব। বিধাতা আমাকে সে সুযোগ করে দিল।
সেদিন কয়েকটা স্টেশন পার হবার পর এক গর্ভবতী মহিলা LRT-তে উঠলো এবং সে আমার সামনেই দাড়ালো। আমি তা দেখে ভাবলাম এইত পাইছি সুযোগ। বাঙ্গালীর কার্টেসি কত প্রকার ও কি কি আজকা হারে হারে টের পাইবা। পুরা জাতির মান সম্মান তখন আমার উপর এমন একটা ভাব। আমিও পুরা জাতির কার্টেসির ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হইয়া ঐ মহিলারে একটা হাসি দিয়া কইলাম
“এক্সকিউজ মি, ইউ ক্যান সিট হিয়ার।”
বইলা আমি উইঠা দাড়াইলাম আর তারে বসার সুযোগ কইরা দিলাম। মনে মনে ভাবলাম এখন মহিলা আমারে থ্যাঙ্ক ইয়্যু বলবে। আর আমি গদ গদ একখানা হাসি দিয়া তাকে বুঝাইয়া দিব, এইটা কোন ব্যাপার না, আমরা বাংলাদেশীরা হরহামেশা এইটা করে থাকি। কার্টেসি কিভাবে রক্ষা করতে হয় তা বাংলাদেশীদের চাইতে বেশি কেউ জানে না।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হইল সে আমারে থাঙ্ক ইয়্যু বলা তো দূরের কথা, আমার দেয়া সিটটাতে বসল না, উল্টা আমার দিকে কটমট কইরা কিছুক্ষন তাকায়া থাকল, আর বিড় বিড় কইরা মালাই ভাষায় কি কইল তার আগা মাথা গোড়া পাছা কিছুই বুঝলাম না। আমি ভাবলাম আমি কি ভূল কিছু বললাম নাকি। যতদূর মনে পড়ে আমি উলটাপালটা তো কিছু বলি নাই। আমি তারে কার্টেসি দেখায়া বসার সুযোগ কইরা দিছি। সে বসবে না সেটা না হয় মানলাম, কিন্তু রাগার কারণটা কি? মহিলার রিএ্যাকশন দেইখা মনে হইল আমি তারে রেপ করতে চাইছি। যাই হোক আমি ব্যাপারটাকে আর পাত্তা না দিয়া সামান্য দূরে একটা ফাকা জায়গায় দাড়াইলাম। কিছুক্ষন পর এক ভদ্রলোক আমারে জিগাইল,
-ভাই কি বাংলাদেশী?
আমি হ্যা সূচক মাথা নাড়লাম।
-মালায়শিয়ায় নতুন?
আমি আবারো হ্যা সূচক মাথা নাড়লাম। এরপর সে যেটা বলল সেটা শোনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।
-ভাই একটা কথা বলি, কিছু মনে কইরেন না। মালায়শিয়ান মাইয়া দেইখা সব জায়গায় লাইন মারার চেষ্টা কইরেন না। বুইঝা শুইনা লাইন মাইরেন।
আমি তার কথা শুইনা রাইগা গেলাম। পাগল নাকি লোকটা।
-এক্সকিউজ মি। মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ। কি আবোল তাবোল বলতেছেন। আমি মালায়শিয়ান মেয়ের সাথে লাইন মারতে যাব কোন দুঃখে।
-তাহলে ঐ মেয়ের সাথে কি করতাছিলেন।
-কেন আপনি দেখেন নাই? ঐ মহিলা গর্ভবতি, আমি ভদ্রতা করে তাকে বসার জন্য আমার সিটটা ছেড়ে তাকে বসতে বলেছি। দ্যাটস ইট। এখানে লাইন মারার কি হইল।
লোকটা তখন কিছুটা হাসি দিয়ে বলল।
-তাইলে আর কখনো এই ভদ্রতা দেখাইয়েন না। আপনার এই ভদ্রতা মালায়শিয়ান মাইয়ারা বুঝবে না। তারা মনে করবে আপনি তার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করতাছেন। এখন বসতে বলছেন, তারপর আলাপ জমানোর চেষ্টা করবেন।
আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললাম,
-আরে ভাই লাইন মারার জন্য তো কোন একটা কারন লাগবে। প্রথমত, সে গর্ভবতী, দ্বিতীয়ত সে মালায়শিয়ান আর আমার মালায়শিয়ান মেয়েদের ভালো লাগে না, তৃতীয়ত শুধু চেহারা ছাড়া তার আপাদমস্তক ঢাকা, ইনফ্যাক্ট আমি তার চেহারাও দেখি নাই, শুধু...
বইলা আমি থাইমা গেলাম, তার চেহারা দেখি নাই সত্যি, কিন্তু আমি যে তার পেট দেইখাই তারে বসার জন্য সিট ছাইড়া দিছি সেটা বলা ঠিক হবে বলে মনে হল না। সে বলল-
-সেটা না হয় আমি বুঝলাম। কিন্তু তাদেরকে সেটা বোঝাবেন কি করে? বাঙ্গালীরা তাদের হেল্প করার জন্য এগিয়ে আসলেই ভাবে এইবুঝি তাদের সাথে লাইন মারতে আসছেন। তারপর তাদেরকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তার সাথে প্রেম করার চেষ্টা করবেন।
-অদ্ভুত তো। একটা ছেলে একটা মেয়েকে হেল্প করবে এতে এতদূর ভাবার কি আছে। আর প্রেম করতে গেলে তো আগে তাকে পছন্দ হইতে হবে। আমি এখন পর্যন্ত এমন কোন মালায়শিয়ান মেয়ে দেখি নাই যাকে দেখলে মনে হয় প্রেম করি। তাদের চেহারার মধ্যে কিছু নাই। শুধু চামড়াটাই সাদা।
-তাদের চেহারায় কিছু থাক বা না থাক তাদের যা আছে সেটার জন্যই কত বাংলাদেশী ছেলে মালায়শিয়ান মেয়েদের পিছে ঘুর ঘুর করে।
-সেটা আবার কি?
-কেন আই.সি.। কোনমতে ফুসলাইয়া একটা মালায়শিয়ান মাইয়া বিয়া করলেই তো আপনি আই.সি.র মালিক। তখন আর আপনাকে পায়কে। অন্যান্য মালায়শিয়ানরা এখানে যেসব সুযোগ সুবিধা পায় আপনিও পাবেন। (এখানে বলে রাখি আই.সি. হল মালয়শিয়ানদের জাতীয় পরিচয়পত্র। এখানে ব্যাবসা, ব্যাঙ্ক লোন, ক্রেডিট কার্ড, ভালো চাকরী সবকিছুতেই আই.সি. লাগে। অর্থাৎ মালায়শিয়ান ছাড়া এইসব সুবিধা অন্যকেউ পায় না। এইকারণে অনেক বাংলাদেশী মালায়শিয়ান মেয়ে বিয়ে করার জন্য মুখিয়ে থাকে।) অবশ্য আগে মালায়শিয়ান মাইয়ারাই বাংলাদেশী পোলা দেখলে নিজে আগায়া আইসা কথা বলত। কিন্তু বাংলাদেশীরা নিজেরাই নিজেদের নাম নষ্ট করছে। এইখানে বিয়ে করে কয়েক বছর থেকে টাকা পয়সা নিয়ে বাংলাদেশে গিয়া আবার আরেকটা বিয়ে করে। ভুলেও এইদেশের বউয়ের কোন খবরাখবর রাখে না। তাই এখন মালয়শিয়ানরা বাংলাদেশীদের সহজে বিশ্বাস করে না। একারনেই আপনি যখন ঐ মেয়েটাকে বসার জন্য সিট ছেড়ে দিলেন তখন সে রাইগা গেছে। সে তখন কি বলছে জানেন, বলছে “মাইয়া দেখলে হুশ থাকে না”। সে হয়ত ভাবছে আপনি তাকে বসতে বলে তার সাথে গল্পগুজব করে খাতির জমাবেন। সেজন্য তার কষ্ট হওয়া সত্যেও সে দাড়ায়া আছে কিন্তু বসতেছে না। ভাই কিছু কনে কইরেন না। এটা তার বা আপনার কারো দোষ না। দোষ আমাদের দেশের কিছু আবালদের। ঐ আবালদের কারণে সব বাংলাদেশীদের তারা একই রকম ভাবে। তবে আপনি যদি একবার ওদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন তবে দেখবেন ওরা আপনার জন্য জান দিয়া দিব।
লোকটার কথা শোনার পর আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম, হায়রে বঙ্গসন্তান, তোমাদের কয়েকজনের জন্য আজকে আমি সামান্য ভদ্রতা দেখাতে গিয়ে তাদের সন্দেহের বস্তুতে পরিনত হয়েছি। এটা একটা জাতির জন্য কতবড় অপমানের সেটা কতজন বাংলাদেশী বুঝবে তা আমার জানা নাই।
পুনশ্চঃ এরপর থেকে আমি কখনো অন্তত মালায়শিয়ান মেয়ে দেখলে সিট ছেড়ে দেই না। (তবে হ্যা বয়স্ক বা প্রতিবন্ধি কাউকে দেখলে ছেড়ে দেই।) বলা যায় না, আবার যদি সন্দেহ করে বসে যে আমি তার সাথে প্রেম করতে চাই। সন্দেহর বস্তুতে পরিনত হওয়ার চাইতে সাময়িক অভদ্রতা অনেক ভালো।

হ্যামার এবং আমার শিক্ষাগ্রহন

“দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহন কর”। ১৪০০ বছর আগে নবীজি আমাদের এই কথা বলিয়া গিয়াছেন। আমরা চাই বা না চাই প্রতিনিয়ত নানা রকমের “শিক্ষা” গ্রহন করিয়া চলিয়াছি। যেমন আজকে আমি নতুন একখানা শিক্ষা গ্রহন করিলাম।
আমার অফিসে অনেক রুপবতীদের মধ্যে এক রুপবতী মালয়শিয়ান আছে (২ সপ্তাহ হইল আমি একখানা সেমি চাকরী পাইয়াছি। সেমি চাকরী বলিলাম কারণ এখনও ট্রেনিং চলিতেছে। ট্রেনিং শেষ হবার পর চাকরী থাকে কিনা বা ওই পর্যন্ত আমার নিজেরই ধৈর্য থাকে কিনা তা এখনও বলিতে পারিতেছি না)। তো গত ২ সপ্তাহ ধরে ওই মেয়ের সাথে হায় হ্যালো চলিতেছিল। আজকে লাঞ্চের সময় ভাবলাম তাহার সাথে গল্প-গুজব করি। হাজার হোক কলিগ বলে কথা, তার উপর রুপবতী কলিগ, চেনা জানা থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু সমস্যা একখানা বাধিয়া গেল। সে আবার ভালো ইংরেজী বলিতে পারে না (অবশ্য আজ পর্যন্ত কোন মালয়শিয়ানকে ভালো ইংরেজী বলিতে শুনি নাই তাহাদের ইংরেজীর দৌড় আই গো, ইউ গো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ)। তো তাহার সাথে তাহার “কোনমতে চালিয়া লইবার মত” ইংরেজী দিয়াই বাক্যালাপ চালাইয়া গেলাম, সাথে লাঞ্চ করিতে লাগিলাম। লাঞ্চ শেষ হইবার পর যখন অফিসে ফিরিয়া যাইতেছি তখন সে হঠাৎ বলিয়া বসিল “ইউ হ্যাভ নাইস হ্যামার”। আমি পুরা তব্দা খাইয়া তাহার দিকে তাকাইয়া রইলাম আর বুঝিবার চেষ্টা করিতে লাগিলাম সে কি বলিতে চাইতেছে (তখন ভাবিতেছিলাম আমার হ্যামারের কথা সে জানিল কিভাবে আর তাহা যে নাইস তাহাই বা সে কি করিয়া বুঝিল। আমার যতদুর মনে পরে আমি প্রাকৃতিক কর্ম সারিবার সময় টয়লেটের দরজা বন্ধ করিয়া লই......।) আমি ব্যাপারটা বুঝার জন্য তাহাকে বলিলাম, “এক্সকিউজ মি, হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট টু সে?” উত্তরে সে যাহা বলিল তাহাতে আমার চক্ষু চড়ক গাছ না একেবারে দেবদারু গাছ হইয়া গেল। সে বলিল, এই যে তুমি মজা করে কথা বল (তাহার মত করিয়া ইংরেজী বলবার সাধ্য আমার নাই তাই বাংলাতেই লিখিলাম)। আমি কনফিউশন দূর করিবার জন্য তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তুমি কি হিউমার বোঝাইতে চাইছ। সে কিছুটা হতবিহবল হইয়া মাথা নাড়িয়া হ্যা বলিবার চেষ্টা করিল।
আমি মনে মনে ভাবিলাম, ইহা কোথায় আসিয়া পড়িলাম। কই হিউমার আর কই হ্যামার। শর্টকাটে ইংরেজী তাহা না হয় মানিয়া লইলাম, কিন্তু কোথায় কোন ওয়ার্ড বলিতে হইবে তাহাও যদি ঠিক মত বলিতে না পারে তো আমার মত অভাগা কি করিয়া তাহাদের সাথে বাক্যালাপ করিবে (আমি নিজেও খুব একটা ভালো ইংরেজী বলিতে পারি না, তাই বলে এদের মত অন্তত আই গো, ইউ গো বলি না)।
আমার আর তাহার সাথে দ্বিতীয় কোন কথা বলার সাহস হয় নাই। খোদাই জানে সে কি বলিতে কি বলিয়া বসে আর আমি কি বুঝিয়া বসি। তাহার চাইতে পুর্বের হায় হ্যালো অনেক ভালো। আমার হ্যামার থুরি হিউমার আমার কাছেই থাক।
(পুনশ্চঃ অফিসে ফিরিবার পর আবিষ্কার করিলাম, এখন আর তাহাকে আগের মত রুপবতী লাগিতেছে না।)

মালায়শিয়ায় আমার চাকুরীর ইন্টারভিউ

মালয়শিয়া আসছি প্রায় ৬ মাস হইতে চলল। গত ৬ মাসে আমি চাকরীর জন্য কম কইরা হইলেও শখানেক জায়গায় সিভি দিসি। তারমধ্যে ই-মেইল বা ফোনে রেসপন্স করছে গোটা বিশেক জায়গা থেকে। সেগুলার মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় আমি স্টুডেন্ট এবং ফরেনার বইলা রিজেক্ট কইরা দিসে। ৮-১০ জায়গা থেকে ইন্টারভিউতে ডাকও পাইছি। এই সব ইন্টারভিউর কয়েকটাতে যাইতে পারি নাই আমার প্রবল ঘুমজনিত সমস্যার কারণে। আর এই প্রবল সমস্যা কাটাইয়া যেসব ইন্টারভিউতে কষ্ট কইরা যাইতে পারছি সেইসব ইন্টারভিউতে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইতে হইছে (এমনিতে মাশাল্লাহ আমার অভিজ্ঞতার ভান্ডার কম না)। যেমন মাস দুয়েক এক জায়গায় ইন্টারভিউতে গেছি, সেখানে ইন্টারভিউয়ার আমারে দেইখা চোখ কপালে তুইলা কয়, তুমি তো মনে হয় ফরেনার। আমি বিনীত ভঙ্গিতে উত্তর দিলাম, জী, এবং সেটা আমার সিভিতে লেখা ছিল। সে এরপর যা কইল তাতে এইবার আমার চোখ কপালে উঠলো। সে কইল সিভিতে তো লেখা আছে তুমি বাংলাদেশী। আমি এইবার কিছুটা রাগত স্বরে কইলাম, বাংলাদেশী মানে যে সে ফরেনার বা এইদেশী না সেটা বুঝার জন্য রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়া লাগে না। সে আমার রাগী স্বরে কিছুটা বোধহয় ভড়কে গিয়ে বলল, না আমি ভাবছিলাম তুমি ইন্ডিয়ান। আমি কইলাম সেটা হইলেতো আমি সিভিতেই লিখা দিতাম। সে কয়, না আমি ভাবছিলাম বাংলাদেশী মানে ইন্ডিয়ান। আমি এইবার রাগত স্বরে টরে না, পুরা রাইগা গিয়া কইলাম, তোমার ভাবনায় সমস্যা আছে। এরপর থিকা কাউরে ইন্টারভিউতে ডাকার আগে ভাবা-ভাবি না কইরা একটু রিসার্চ কইরা নিও। তাইলে আর উল্টাপাল্টা ভাবতে হইবনা। এই কইয়া আমি অইখান থিকে চইলা আসলাম আর মনে মনে কইলাম কোন মহাগর্ধভ যে তোর মত একখান গর্ধভরে এই চেয়ারে বসাইছে তারে পাইলে তার পাছায় কইস্যা একখান লাত্থি মাইরা কইতাম সারা জীবন মনে রাখবি ইন্ডিয়া মানে ইন্ডিয়া, বাংলাদেশী মানে বাংলাদেশী।
অন্য আরেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে গিয়া তো আরেক সমস্যায় পরতে হইছে। তার আবার ফরেনার হইলে সমস্যা নাই। শুধু বাংলাদেশী হইলেই সমস্যা। উগান্ডা, মাল্টা, রোয়ান্ডা যেই দেশের নাগরিক হউক না কেন সে কাজে নিব। কিন্তু বাংলাদেশী কাউরে নিব না। আমার কেন জানি একবার মনে হইল তারে জিগাই, কেন ভাই, বাংলাদেশীরা কি তোমার হো* মারছে। কিন্তু সেটা আর জিগাইতে পারি নাই, তার বদলে মুখখানা হাসি হাসি কইরা জিগাইছিলাম, কিছু মনে না করলে বলবা কি, কেন বাংলাদেশীদের তুমি কাজে নিবা না। সে তার চোয়াল শক্ত কইরা আমারে উত্তর দিসিলো, এইটা আমাদের কোম্পানীর পলিসি। আমি মনে মনে কইলাম উষ্টা মাই তোর পলিসির কপালে।
আরেক জায়গাতে যেই সমস্যায় পরছি তা আরও করুন। তাহার ফরেনার হইলও সমস্যা নাই এমনকি মনে হয় এলিয়ান হইলেও সমস্যা ছিলো না। যার কারনে খুব সহজেই আমি ইন্টারভিউতে টিকা গেলাম। কিন্তু পরে বুঝলাম ঘটনা অন্যখানে। আর সেইটা হইল তাদেরকে আমার জামানত স্বরূপ ৩০০০ রিঙ্গিত জমা দিতে হবে। যেটা আমার ১ বছরের কন্ট্রাক্ট শেষ হইয়া যাবার পর দিয়া দিব। আমি তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। সে বাখ্যা দিল যেহেতু আমি মাল্যশিয়ান না সেহেতু কোম্পানীর পলিসি অনুযায়ী এই জামানত ব্যবস্থা। আমার কেন জানি মনে হইল এইখানে কোন বাঙ্গালী এই ব্যাবস্থার সাথে জড়িত। আমি আন্দাজে ঢিল মারলাম। জিগাইলাম এইখানে কতজন ফরেনের কাজ করে। সে বলল প্রায় ১০-১৫ জন। তারা কোনদেশী। উত্তর সবাই বাংলাদেশী। আমি যা বুঝার বুইঝা ফালাইছি (আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে ইন্টারভিউ মাশাল্লাহ কম দেই নাই)। আমি তারে কইলাম কিছু মনে না করলে একটা কথা জিগাই। সে বলল জী বল। তোমার কি মনে হয় আমি ফাজলামি করার জন্য এখানে আসছি। সে বলল মানে। আমি কইলাম, আমি যদি ৩০০০ রিঙ্গিত জামানত দিতে পারি, তাইলে আমি তোমার এই ২০০০ রিঙ্গিত বেতনের চাকরী করতে আসব কোন দুঃখে। তোমার যে বাংলাদেশী কলিগ এই পলিসি বানাইছে তারে কইও, সিভি ভালোমত না পইড়া ক্যান্ডিডেট ডাকলে, ধান্দাটা জমবে না। আমার সিভিতে খুব স্পষ্ট কইরা আমার ওয়ার্ক এক্সপেরিয়ান্স দেয়া আছে। যেসকল ক্যান্ডিডেটদের কোন ওয়ার্ক এক্সপেরিয়ান্স নাই তাদেরকে ডাক। ভালো ধান্ধা করতে পারবা। নাইলে চাট্টি-বাট্টি গোল কইরা এইখান থিকা পালাইতে হইব। ভালো থাক। হ্যাভ এ নাইস ডে। এই বইলা যখন আমি ওইখান থিকা চইলা আসতাছি তখন দেখলাম ব্যাটা আমার দিকে চোখ বড় বড় কইরা তাকায়া আছে। আমি খালি মনে মনে হাসলাম। অনেক কিছুই তখন মনে মনে ভাবতাছিলাম। সে কথা না হয় নাইবা বলি।

About this blog

Welcome to my blog.

Pages