Search This Blog

ছবি ব্লগ: নিউইয়র্ক সিটির এম্পায়র স্টেট বিল্ডিং নির্মাণ সময়কার কিছু স্থিরচিত্র

নিউইয়র্ক সিটির এম্পায়র স্টেট বিল্ডিং-এর কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। ১৯৩১ সালে যখন এর নির্মাণকাজ শেষ হয় তার পর থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ১০২ তলা (১৪৭২ ফুট অথবা ৪৪৮ মিটার) উচ্চতাবিশিষ্ট এই ভবনটি পৃর্থবীর সর্বোচ্চ ভবন ছিল। ১৯৭২ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মীত হলে ভবনটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন এর খেতাব হারায়। এখানে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং নির্মাণ সময়কার কিছু স্থির চিত্র (সাদাকালো) দেয়া হল।

























































ছায়াহীন মানব


পথ মাঝে পথ হারিয়ে গেছে

গভীর রাতের তারাগুলো

লুকোচুরি খেলায় মত্ত,

ক্রমেই চোখ ধাধিয়ে দেয়

দূর্ভেদ্য অন্ধকার।

শ্বাস-প্রশ্বাসে বিষাক্ত বায়ূ

নিজের মত করে

পথ খুজে নেয়,

কখনোবা তা মাতাল হয়ে

মস্তিষ্কে আঘাত করে।

সাহসা চোখ ধাধিয়ে দেয়

মুষ্ঠিমেয় আলো,

সে আলোর ঝলকানিতে

চোখ জ্বালা করে

সে আলোর আধিক্য

বিরক্তিকর মনে হয়।

ক্রমেই আমি আবিষ্কার করি

আলো আমায় গ্রাস করে ফেলছে

আমার ছায়া লীন হয়ে যাচ্ছে

খুবই দ্রুত আমি পরিনত হই

এক ছায়াহীন মানবে।



সময়ের আর্তনাদ

ঘুমন্ত রজনীর ধুসর ছায়ায়

নীরবতা পানীয় হয়ে যায়,

স্নিগ্ধতা ফানুস হয়ে

তলপেট ভেদ করে;

নির্বাক রাজপথ যেন

অকিঞ্ছিতকর শয্যা-

নিয়ন আলোর মশারী টাঙ্গিয়ে

প্রস্তুত আরেকটি রাত্রিযাপনের,

পীচের বিছানায় গা এলিয়ে

দাঁড়িয়ে ঘুম-রাজ্যের দ্বারপ্রান্তে;

পাচটনি ট্রাকের দুর্নিবার গতি

কানে যেন ছন্দের মত বাজে,

হঠা কোনো বৈমানিকের কার্যকলাপ

ভাবনায় ছন্দপতন ঘটায়

অদূরে কোন কুমারী মা

তার নবজাতকের কান্না থামাতে ব্যস্ত,

হয়ত তার ঘরের দুয়ারে

হানা দিয়েছে কোনো মাংশলোভী;

অন্যদিকে কিছু বিকৃত বালক

ধূসর ধোয়ায় গা ভাসিয়েছে,

আরেকগুচ্ছ মধ্যবয়সীরা

গোল হয়ে বসে আছে,

তারা আজ পৃথিবীর

সবচেয়ে সুখী মানব

মাঝে মাঝে কিছু টলায়মান যাত্রী

তার পথ খোজায় মত্ত-

সদ্যভঙ্গ নিষিদ্ধ সভা থেকে

সভ্যতার পথে পারি দিতে চায়,

বিলাসবহুল গাড়িতে একজোড়া প্রানী

আদিম খেলায় মেতে উঠেছে

ঘরে ফেরার বিলম্বটুকু যেন

সহ্যেসীমানার বাহিরে;

আশাপাশের শত অসামঞ্জস্যতা

তাদের স্পর্শ করে না-

তারা যেন পৃথিবীর

সবচেয়ে নির্বিকার নাগরিক

একই ছাদের নীচে বসবাসরত

সব একই রকম প্রানীর-

ভিন্ন ভিন্ন আচরণ

সবার অলক্ষে প্রতিদ্ধনিত হয়

সভ্যতার চিকার;

দূরে-বহুদূরে ভেসে যায়

সময়ের আর্তনাদ।




কল্পগ্রহের বাসিন্দা

কোন এক গোধূলিবেলায়

পদতল ছুয়েছিল এই ধরনীর ধুলো

গায়ে লেগেছিল দখিনের তপ্ত বায়ূ,

বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ

নীরব কোলাহলে মুখরিত,

জনশূন্যহীন প্রান্তরে সবুজের ঢেউ

বিস্মিত করে ক্রমাগত,

আকস্মাৎ এ ধরায় আগমন

উচ্ছাস থেকে করে উচ্ছাসিত।

মুগ্ধ নয়নে এগিয়ে যাই

লোকালয়ের দিকে,

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পায়ে এগিয়ে যাই

কোন প্রাণের অস্তিত্বের খোজে,

নীলাভ চক্ষুদ্বয় সদা খুজে বেড়ায়

মানুষ নামের বিচিত্র প্রানী।

আলোকবর্ষ দুরের এই জগতে নাকি

তাদের বসবাস,

নিজেরাই নাকি নিজেদের মাঝে

করে ভয়ের চাষ।

এগিয়ে যাই আর ভাবি

কোথায় দেখা পাব,

বিশ্বব্রহ্মান্ডের এই ক্ষুদ্র জগতে

যা বড়ই দুষ্প্রাপ্য।

হঠা দেখা মেলে তার

একজন নয় দুজন নয়

হাজারে হাজার।

ক্রমাগত তারা ছুটছে

দ্বিগবিদিকশুন্য হয়ে

ভীত সন্ত্রস্ত তাদের আচরন

সন্দিগ্ধ নয়নে তারা

দেখছে আমায়,

হয়ত ভাবছে-

কে আমি এই বিকটদর্শন

মানুষের রাজত্বে-

এ কার আগমন?

স্থির হয়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে

তেমনি স্থির তাদের চক্ষুদ্বয়,

নিজে নিজে ভাবি-

তাদের সম্পর্কে যা শুনেছি

তা খুব বেশি ভুল নয়।

অতঃপর আমি এগিয়ে যাই,

আমার শীর্ণ হাতখানি বাড়াই

ভীত জড়ানো কন্ঠে তারা

আমায় প্রশ্ন করে-

কে তুমি?

কোথা থেকে এসেছ?

মৃদু হাসিমাখা স্বরে বলি-

একই ঈশ্বরের সৃষ্টি মোরা

হয়ত ভিন্ন গঠন,

কিংবা আচরন

নই আমি কোন অতিপ্রাকৃত কেউ

অন্য এক ধরনী থেকে

আমার আগমন।



বিধাতার বলি

বটবৃক্ষের তলে দাঁড়িয়ে এক উদাসী তরুন

ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সে নষ্ট অতিতের দরুন।

গুম্ফমন্দিত মুখাবয়বে রুক্ষতার ছাপ

সব রুক্ষতা ছুয়েছে গত জন্মের পাপ।

বাবরী দোলানো চুলে হতাশার বাসা

নিয়তি সেথায় খেলে নির্মম পাশা।

দেহের পড়তে তার বার্থতার ছবি

পংক্তি একেছে সেথায় এক অদৃষ্ট কবি।

চোখের কোণে আকা শুকানো জলের রেখা

বিধাতার শেষ খেলা আজও হলনা দেখা।

যার খেলার বলি হয়ে তার পথচলা

তার তরে গড়ে সে দুঃস্বপ্নের দলা।

দৃষ্টি সীমানা ধীরে ক্ষীন হয়ে আসে

দুচোখ আজ নিয়োজিত স্বপ্নহীনতার চাষে।

দুহাতে আকা তার নিজহত্যার খুন

আত্মা হত্যার আর্তনাদ তার লাগেনা করুন।

অবিন্যস্ত ইচ্ছেগুলো কাক হয়ে ওড়ে

সাদাকালো স্বপ্নগুলো ধুকছে প্রকোপ জ্বরে।

বৃক্ষের ছায়ায় তরুন ভাবে নিরন্তর

ধরনীর তার কাছে মরুসম প্রান্তর।


কল্পলোকের প্রহরী

আবার আমি আসব ফিরে, রইব শুধু তোমায় ঘীরে

তীব্রতর সুখের ছোয়ায়, ভাসব মোরা কল্প-তীরে;

অস্তমিত রবির আলোয়, যুক্ত হবে মুক্ত হস্ত

কম্পিত অধরেতে, অঙ্কিত হবে প্রেমারষ্ঠ;

নতমুখের লাজাবরন, স্ফুরিত গুপ্তবাক্য

নির্বাক নিরালাতে, সময় হবে প্রেমসাক্ষ্য;

অধির হয়ে যে সময়ের, করছ তুমি সপ্নচাষ

তার মাঝে আর বর্তমানের, তফাত ধীরে পাচ্ছে হ্রাস।

 

একদা হয়ত তোমা থেকে, গিয়েছি সরে ক্রমে ক্রমে

প্রয়োজনের ধুসর বলয়, পরিনত এক নরাধমে;

অভিমানের বৃহ কাব্য, করেছ পাঠ নিত্যদিন

তিরষ্কারের তিক্তবানে, বারছে সদা প্রেমঋণ;

নয়নকোণে হীরক কণা, উজ্জ্বল হয় রৌদ্রালোকে

মনের কোণের মায়াগুলো, ধুকছে যেন সদ্যশোকে;

সময়ের এক বেড়াজালে, বদ্ধ ছিলাম দুজনে

ইচ্ছের সব পায়রা গুলো, পুষেছি কেবল গোপনে;

 

সকল প্রকার হিংস্র বাধন, আসছি আবার ছিন্ন করে

সব অপেক্ষার ইতি টেনে, ফিরব শুধু তোমার তরে;

দেখবে তখন এই আমি আর, ঐ আমিতে কত তফাত

কল্পলোকের প্রহরীগুলো, দীর্ঘায়ীত করবে প্রভাত।



About this blog

Welcome to my blog.

Pages