Search This Blog

ব্যবধান


আয়নার সামনে দাড়িয়ে দুচোখ ঝাপসা হয়ে যায়
মনের কোণে অজানা কেউ অতীতের পানে ধায়,
চোখের সামনে যাচ্ছে দেখা নিজের প্রতিচ্ছবি
দৃশ্যপটে ভাসছে উঠে ফেলে আসা সবই,
একে একে সব দৃশ্যায়িত কৈশোর যৌবন
আজ তা ক্রমশ প্রতিনিয়ত মরচে পড়া ক্ষন,
অতীত আর বর্তমানে আজ আকাশ পাতাল ভেদ
সময়ের সাথে পরিবর্তন যেন অনভিপ্রেত,
এখন আর চোখে পড়েনা চামড়ার ঐ ভাজ
খালি পায়ে হাটতেও আজ নেই তো কোন লাজ,
গায়ের জামা নোংরা হলেও
ক্ষতি নেই তাতে
জ়ীবনটা আজ লগ্নিকৃত অনিচ্ছার খাতে,
একদা যা ছিল দুচোখের বিষ তাই হায়েছে সাথী
নিঃসঙ্গতার সাথে সন্ধি করে কাটে প্রতি রাতই,
আরতো এখন হয়না দুচোখ স্বপ্নেতে বিভোর
সব
স্বপ্ন চুরি করেছে সময় নামক চোর,
এখন সকল অবসর কাটে করে গ্রৃহসেবা
কার পরানের খবর কে রাখে কখন কেবা,
ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছে নিজের জগত
সাদাকালো রংও যেন লাগে এখন প্রকট,

নিজেকে দেখে নিজেকে বড় অচেনা মনে হয়
হারিয়েছে জীবনের ছন্দ সব, হারিয়েছে তাল লয়,
অতীত যেন দেখায় যায় ঐ সুদুরে
সদৃশ কোন সত্তা বোধহয় সেথায় বাস করে,
মুচকি হাসি ওষ্ঠে তবু যেন তা ম্লান
তার আর আমার মাঝে বিস্তর ব্যবধান।



আবেদন


ধরনী যখন অতল নিদ্রায়
নিঃস্বঙ্গ রাত নিঝুম প্রায়
চেনা পরিবেশ অচেনা হয়ে
সুদুরে হারিয়ে যায়।

নীরবতার সুর বাজে চারিদিক
প্রকৃতি যেন নিরব অলৌকিক
ভীতু মন গুটিয়ে আসে
হোক না সে যত বলিক।

চন্দ্রালোকের মায়াবী আলোয়
তৈরী হয়েছে বিশুদ্ধ বলয়
নিজবিচারের মহা আয়োজনে
যাচ্ছে বয়ে স্নিগ্ধ মলয়।

দাড়িয়ে দুই পায়ের ভরে
নিজেকে সুদ্ধ করার তরে
মুখোমুখি মহাশক্তিধরের
আজ রাত্রি এই দ্বিপ্রহরে।

নিজের সাথে শুধুই নিজে
কানে নিজের কন্ঠ বাজে
হিসাব নিকাশ করবে শুরু
ছিল যা সব নিজের মাঝে।

একাকী এই গভীর রাতে
সিক্ত যখন অশ্রুপাতে
হয়ে যায় সব এলোমেলো
ভবিষ্যতের কষাঘাতে।

সর্বশক্তিমত্তার কাছে
আবেদন করার কত কি আছে
শুদ্ধ হৃদয় প্রাপ্তিযোগে
ফিরব এক মানবের ধাচে।

আলোকিত


একদা কোন শক্তিধর করেছিল মহাপরিকল্পনা
মৃত্তিকার সাথে নিপুনভাবে আকবে কোন আলপনা,
একরঙ্গা তরলে তার পরিপূর্ন ক্যানভাস
একইভাবে সমানুপাতে সাজানো দুপাশ;
তার মাঝে আছে ভিন্ন এক সত্তার খেলা
পেল নতুন রূপ ছিল যা মাটির দলা,
অবশেষে সৃষ্টি হল অপুর্ব এক আকৃতি
তার মাঝে দেয়া হল বিচিত্র প্রকৃতি;

এটা তার সকল সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি
এর সাথে আবির্ভূত হল নতুন কৃষ্টি।
ধীরে ধীরে বইবে সে সভ্যতার আলো
মহাত্মাদের নির্দেশনায় তারা যা পেল;
সহস্রাব্দের পর
সহস্রাব্দ হয়েছে গত
তবুও তারা সবকিছুর মাঝে আলোকিত।

প্রত্যাবর্তন


সময়ের যত ব্যবধান সব
তিলে তিলে করেছে গ্রাস,
পুঞ্জিভূত মনের কোণে
অজানা কোনো ত্রাস।
দাঁড়িয়ে খোলা প্রান্তরে সবাই
আঙ্গুলের কর গোনে,
চোখে মুখে মিছে প্রত্যাশা খেলে
নিজ নিজ প্রয়োজনে।
তামাটে ধরনী উত্তাপ ছড়ায়
ধরনীবাসীর মাঝে,
সবাইকে আজ নিয়ে যাবে
ঐ সূর্যালকের কাছে।
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সকল
নগ্ন নর-নারী,
অন্তিম কোন পথের পানে
দিতে হবে আজ পাড়ি।
এসেছিল যে রূপে এ ধরায়
ফিরিবে সেই রূপে,
কারো বসতি খোলা উদ্যানে
কারোবা অন্ধকূপে।
সময়ের শেষ প্রহরে সবার
ফিরিবার আয়োজন,
যেথা হতে ছিল সকলের শুরু
সেথায় প্রত্যাবর্তন।

About this blog

Welcome to my blog.

Pages