কোন এক গোধূলিবেলায়
পদতল ছুয়েছিল এই ধরনীর ধুলো
গায়ে লেগেছিল দখিনের তপ্ত বায়ূ,
বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ
নীরব কোলাহলে মুখরিত,
জনশূন্যহীন প্রান্তরে সবুজের ঢেউ
বিস্মিত করে ক্রমাগত,
আকস্মাৎ এ ধরায় আগমন
উচ্ছাস থেকে করে উচ্ছাসিত।
মুগ্ধ নয়নে এগিয়ে যাই
লোকালয়ের দিকে,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পায়ে এগিয়ে যাই
কোন প্রাণের অস্তিত্বের খোজে,
নীলাভ চক্ষুদ্বয় সদা খুজে বেড়ায়
মানুষ নামের বিচিত্র প্রানী।
আলোকবর্ষ দুরের এই জগতে নাকি
তাদের বসবাস,
নিজেরাই নাকি নিজেদের মাঝে
করে ভয়ের চাষ।
এগিয়ে যাই আর ভাবি
কোথায় দেখা পাব,
বিশ্বব্রহ্মান্ডের এই ক্ষুদ্র জগতে
যা বড়ই দুষ্প্রাপ্য।
হঠাৎ দেখা মেলে তার
একজন নয় দুজন নয়
হাজারে হাজার।
ক্রমাগত তারা ছুটছে
দ্বিগবিদিকশুন্য হয়ে
ভীত সন্ত্রস্ত তাদের আচরন
সন্দিগ্ধ নয়নে তারা
দেখছে আমায়,
হয়ত ভাবছে-
কে আমি এই বিকটদর্শন
মানুষের রাজত্বে-
এ কার আগমন?
স্থির হয়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে
তেমনি স্থির তাদের চক্ষুদ্বয়,
নিজে নিজে ভাবি-
তাদের সম্পর্কে যা শুনেছি
তা খুব বেশি ভুল নয়।
অতঃপর আমি এগিয়ে যাই,
আমার শীর্ণ হাতখানি বাড়াই
ভীত জড়ানো কন্ঠে তারা
আমায় প্রশ্ন করে-
কে তুমি?
কোথা থেকে এসেছ?
মৃদু হাসিমাখা স্বরে বলি-
একই ঈশ্বরের সৃষ্টি মোরা
হয়ত ভিন্ন গঠন,
কিংবা আচরন
নই আমি কোন অতিপ্রাকৃত কেউ
অন্য এক ধরনী থেকে
আমার আগমন।
